ইয়াহইয়া আহমদ তানহার: ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে।
বাগেরহাটে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নির্মাণকাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে শ্রমিকদের হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামে এক নারী অভিযোগ করেন, তার দোকান দখল করে সেটিকে বিএনপি অফিস বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মারধর, হুমকি ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে।
নেত্রকোনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বাজার, জলাশয় ও বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।
গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক বিএনপি নেতাকে দল থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে।
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারও হয়েছে, যা অভিযোগের গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
টাঙ্গাইলেও চাঁদা দাবির ঘটনায় বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—
দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেই স্বীকার করেছে যে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এতে করে প্রশ্ন উঠছে,
সমস্যা কি বিচ্ছিন্ন, নাকি এটি দলীয় কাঠামোর ভেতরেই গভীরভাবে প্রোথিত?
সমালোচকরা বলছেন,
ক্ষমতায় এসে এই ধরনের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা।
রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকলেও দ্রুত বিচার বা দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে।
ফলে বিএনপির “পরিবর্তনের রাজনীতি” প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
যেখানে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেখানে বাস্তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ বড় ধরনের আঘাত দিচ্ছে দলের ইমেজে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন,
এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
কারণ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু যদি পুরনো অভিযোগই ফিরে আসে,
তাহলে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়,
ক্ষমতায় এসে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আর বিরোধী রাজনীতি নয়—
বরং নিজেদের ভেতরের এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করা।
