ইয়াহইয়া আহমদ তানহার: বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে তারা নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের বদলে রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করছে। বিশেষত রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের কার্যক্রমে বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতিত্ব এবং ভিন্ন মতধারার মানুষদের দমন করার প্রবণতা চোখে পড়ে।
পুলিশের বিরোধী পক্ষপাতের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বরতমান ও পূর্ববর্তী সময়ের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, যেখানে বাস্তুতই অনুসন্ধান, গ্রেপ্তার ও মামলার পরিচালনায় রাজনৈতিক নির্দেশের ছায়া দেখা গেছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, পুলিশ নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক লয়ালটিকে কেন্দ্র করে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাতে ক্ষমতাসীন দলের—or সাধারণ জনগণের বিশ্বাসে—সংশ্লিষ্ট নেতা ও সমর্থকদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভেতর রাজনৈতিক চাপের সংস্কৃতি পরিবার-ভিত্তিক দলীয় রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে, যা সাধারণ নাগরিকের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে।
পুলিশের এই দৌড়ঝাঁপ নির্বাচনী সময় আরও দৃশ্যমান হয়—নির্বাচনী সহিংসতা তথ্য সংগ্রহ, বিরোধী দলীয় কর্মসূচি প্রতিহত ও সমর্থক সংগঠনের সমর্থনে পুলিশি কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়মিত শুনা যায়।
এতে করে জনগণের কাছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আইনের রক্ষক না হয়ে রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা একটি গম্ভীর সংকট সৃষ্টি করেছে।
মার্জিত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে—সর্বশেষ পুলিশ রূপান্তর প্রস্তাবে যদিও স্বাধীন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তা সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণেই থাকায় সেই কমিশনও নিরপেক্ষ কাজ করতে পারে না—এখনো পর্যন্ত পুলিশ পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত হয়নি।
এই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুলিশকে বন্দুগণ বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আদেশ প্রয়োগকারী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে, আইনের শাসনের বদলে রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তি তৈরি করছে।
সরকার ও বিএনপি বিশেষজ্ঞদের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দিক থেকে কাজ করতে দেখা গেছে, বিশেষ করে বিরোধী মতাদর্শ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কত্নির্দেশমূলক পদক্ষেপে।
ফলে পুলিশের ভূমিকা এখন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়—
এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বাহিনী হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা জনমনে ভয়, অনভিপ্রেত আচরণ এবং স্বৈরাচারিত বাস্তবতা তৈরি করছে।
অপরাধ, সহিংসতা ও বিরোধী মতের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
একটিমাত্র বাহিনী হিসেবে যারা আইনের রক্ষক—তাদের কাজ এখন রাজনৈতিক সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছিলেও, এই আচরণ আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অবশেষে বলা যায়—
পুলিশকে যদি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করা থেকে মুক্ত না রাখা যায়, তাহলে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা ও জনমনের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না।
