বিএনপিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের: বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব।

আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘দেশে বর্তমানে বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রতিপালন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের হামলার শিকার শুধু আমরা নই, দীর্ঘদিন ধরে যারা তাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, একসঙ্গে জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তারাও আজ বিএনপির নেতা–কর্মীদের হামলায় আহত ও নিহত হচ্ছে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপির দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন দাবি করে আরিফুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা নিজেদের নেতা–কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে?’

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক নারী সমাবেশে আরিফুল ইসলাম এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান থানা মহিলা শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে। আরিফুল ইসলাম জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সমাবেশে আরিফুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, এটি ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন। একই সঙ্গে এটি দেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন। এসব লক্ষ্য সামনে রেখেই ১১টি দল জোট গঠন করেছে।

আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের জোটের অঙ্গীকার।’

শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করে এনসিপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চলেছে, সেখানে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

আরিফুল ইসলাম মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

নারীদের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করে আরিফুল ইসলাম বলেন, নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের অগ্রগতি সম্ভবপর নয়।

ঢাকা-১৮ আসনের নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু এবং গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর দক্ষিণখান পশ্চিম থানার আমির আবু সাঈদ শাহনাওয়াজ, নায়েবে আমির মো. মামুন, সেক্রেটারি আলী হোসাইন মুরাদ এবং মহিলা বিভাগের উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালিকা মর্জিনা খাতুন ও দক্ষিণখান পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ফাতেমা ইয়াছমিন রুমা।

সমাবেশের পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের সমর্থনে কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিলি করা হয়।