আইনের পাহারাদার না অপরাধের ছায়াসঙ্গী? প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ প্রশাসন

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

ইয়াহইয়া আহমদ তানহার: বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা দিনদিন কমে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বদলে অনেক সময়ই দেখা যায়, তারা ক্ষমতার দাসে পরিণত হচ্ছে।

ঘুষ, হয়রানি, মিথ্যা মামলা, মাদক ‘ক্রসফায়ার’ নাটক—এসব ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও অধিকাংশ সময়ই বিচার পায় না। বরং অভিযোগকারীকেই উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।

রাজনৈতিক পক্ষপাত, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় অপরাধীদের রক্ষা, এবং বিরোধী মতকে দমন করার অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে।

থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও ‘টাকা না দিলে কাজ হয় না’—এই অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট।

বিশেষ করে গরিব, প্রান্তিক, নারী বা সংখ্যালঘুদের প্রতি পুলিশের আচরণ অনেক সময়ই হয় অবজ্ঞাজনক ও হুমকিমূলক।

ফোর্সের মধ্যে নানা পদে দুর্নীতি, পদোন্নতিতে ঘুষ, পোস্টিংয়ের জন্য তদবির এসব প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিচ্ছে ভেতর থেকে।

রাস্তায় হকার বা রিকশাওয়ালাদের থেকে নিয়মিত চাঁদা, মাদক উদ্ধার অভিযানে ‘অভিযুক্ত বানিয়ে’ অর্থ আদায়—এসব ঘটনা পুলিশকে অপরাধের অংশীদার করে তুলছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অপরাধ দমনের বদলে তারা নিজেরাই অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছে—তদন্তে গাফিলতি, সাক্ষী কিনে নেওয়া বা তথ্য চেপে যাওয়ার মতো ঘটনায়।

মানুষ যখন পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চায়, তখন তারা ভয় পায়। এটাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

যে পুলিশ ‘জনতার বন্ধু’ হওয়ার কথা, এখন তারা অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে ভয়ের প্রতীক।

জবাবদিহির অভাব, রাজনৈতিক ব্যবহার এবং কাঠামোগত দুর্নীতি দূর না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়তেই থাকবে।

এই সংকট শুধু পুলিশের নয় এটি রাষ্ট্রের আইন ও ন্যায়ের প্রতি আস্থার সংকট।

Leave a Reply