মাসুদা আক্তার: বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে ১,৪৯০ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেকে পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে পুলিশের জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত পুলিশ নিজেই পরিচালনা করলে তদন্ত কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘটনাও সামনে এসেছে।বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা, অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পুলিশের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া—কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থ রক্ষা করা নয়।১৭ জন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয় আলোচনায় আসে। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এগুলো অভিযোগ—সবগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
