বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে আদর্শগত বিচ্যুতি ও দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত, তাদের বড় একাংশ এখন আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসনের রাজনীতিতে ব্যস্ত

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশে বর্তমানে বিএনপি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত, একাংশ ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করতেছে, এবং বর্তমানে এই অংশই বাংলাদেশে বেশি প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর । আর আওয়ামীলীগকে পূনর্বাসনের কারণে মাঠপর্যায়ে চরম অস্বস্তি ও তীব্র অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এবং ভয়াবহ মারামারি হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মূল আদর্শ থেকে বর্তমান নেতৃত্ব বিচ্যুত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন খোদ দলেরই নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন এবং তৃণমূলের একাংশের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিএনপি সম্পূর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি, হানাহানি ও খুনাখুনিতে লিপ্ত। অনেক গণমাধ্যমের সংবাদে ইহা প্রমাণিত, যেমন: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দেশ রূপান্তর এর প্রতিবেদন “মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫”। ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ঢাকা টাইমস এর শিরোনাম ” কালীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, পুলিশ সহ আহত ১২”। ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত The Trame এর শিরোনাম “চট্রগ্রামে যুবদল নেতার হাত কেটে ফেলেছে যুব দলের অন্য গ্রুপ”। ১০ মার্চ ২০২৬ জনতার আদালতের শিরোনাম মেহেরপুর ইউনিয়ন পরিষদ দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৩৫ জন। ২৫ এপ্রিল ২০২৬ সমকালের রিপোর্ট ” ধানকাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১,। ৯ এপ্রিল ২০২৬ বার্তা বাজার এর প্রতিবেদন “নারায়নগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের গুলাগুলির মধ্যে পড়ে শিশু গুলিবিদ্ধ। ২৫ মার্চ ২০২৬ কালবেলার প্রতিবেদন “বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আরও একজনের মৃত্যু। ২৩ মার্চ ২০২৬ NewsNowBD এর শিরোনাম “বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, পুলিশ সুপারসহ আহত ৩৫।

বাংলাদেশে বিএনপি আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করার কারণে যেমনিভাবে বিএনপির মধ্যে দুই গ্রুপ হয়ে মারামারি, হানাহানি ও খুনাখুনিতে লিপ্ত হয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে বিএনপি আওয়ামীলীগের হাতে মারও খাচ্ছে। যেমন: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নাগরিক প্রতিদিন এর শিরোনাম “সশস্ত্র হামলায় বিএনপি কর্মী নিহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে সহ ৫ জন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত টেবিল টক ইউকে এর শিরোনাম “বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ-লীগের হামলা, ভাংচুর আহত ২০”। ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত DNN News এর শিরোনাম “এলাকায় ফেরার সুযোগ পেয়েই বিএনপি কর্মীর হাত-পা ভেঙ্গে দিলেন আ-লীগ নেতাকর্মীরা”। ৩ এপ্রিল ২০২৬ নিন্দুক এর শিরোনাম “আ-লীগ নেতাকর্মীরা মিলে বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা”। ১১ জুন ২০২৬ নাগরিক বাংলা নিউজ এর শিরোনাম “বিএনপির ৬ নেতা কে বেধড়ক পেটাল আ-লীগ”। ২৭ মার্চ ২০২৬ বাংলার ২৪ ঘন্টা, শিরোনাম করেছে “বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিএনপির ৬ সমর্থককে কুপিয়ে জখম করলেন ছাত্রলীগ নেতা”। ২৯ মার্চ ২০২৬ Fns24.com এর শিরোনাম “আওয়ামীলীগ নেতার হামলায় বিএনপির ১০ কর্মী আহত”।

ঠিক একই সাথে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনে এখনো বিগত আওয়ামী আমলের বিতর্কিত আমলারা সপদে বহাল তবিয়তে থাকায় শাসনব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে যে, বাংলাদেশে নামেমাত্র বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে দেশ চলছে আওয়ামীলীগের ইশারায়। যেমন: ২ জুলাই ২০২৬ The News এর শিরোনাম “অভিযোগের পর অভিযোগ তবুও বহাল তবিয়তে ওসি মাহবুব, উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ The Wave Money এর শিরোনাম “আওয়ামী সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্তরাই মন্ত্রী – প্রতিমন্ত্রীদের দেহ রক্ষী”। ৬ মে ২০২৬ নাগরিক প্রতিদিন এর শিরোনাম “গুম-খুন ও ছাত্র -জনতা হত্যার আসামিকে করা হলো ফেনীর এসপি”। বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর গুলির হুকুম দাতা, শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ৯ নং অফিসার এখনও দায়িত্ব পালন করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে। সংসদে এক এমপি বলেন বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশত আওয়ামীলীগের পুলিশ। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ NENP News BD এর শিরোনাম ” তিন শর্তে দেশে আসছেন তারক জিয়া”।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘কলকাতা নিউজ’-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যে শেখ হাসিনা অতি শীগ্রই বাংলাদেশে ফিরছেন এবং তার
প্রত্যাবর্তনের ঘোষণায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভূমিকম্প শুরু হয়েছে, যা বর্তমান মন্ত্রিসভা ঘিরে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। ১৬ জুলাই দৈনিক আমাদের খবর শিরোনাম করেছে যে সাবেক বিবিসি প্রধান সাবির মোস্তফা বলেছেন, দেশে ফিরতে ভারতই শেখ হাসিনাকে চার্টার বিমান দিতে পারে। ১৫ জুলাই ২০২৬ bdcnews.tv এর প্রতিবেদনে দেখাযায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনাব জি এম কাদের বলেছেন “শেখ হাসিনার দেশে আসাটা অত্যন্ত জরুরি”। ১৫ জুলাই Duranto Sylhet এর শিরোনাম “শেখ হাসিনার সাথে ৪০টির উপরে বিমান নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকা বিমান বন্দরে নামবে”।

​এদিকে বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও রক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী অংশটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিতেছেন। এর একটি বাস্তব চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে, যেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে বিএনপিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাঙ্গাবালীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিবে বিএনপি এবং তিনি নিজে তাদের পাশে আছেন। এই ধরনের প্রকাশ্যে তোষণ ও পুনর্বাসনের রাজনীতির কারণে শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ। সম্প্রতি ‘দৈনিক জনবাণী’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মোহাঃ মামুন সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে চায় এবং তারা দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে হুবহু আওয়ামী লীগের মতোই দেশ চালাচ্ছে।

​আদর্শগত এই বিচ্যুতির পাশাপাশি দেশজুড়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এখন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নিয়েছে। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে ডাকা মানববন্ধনের সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দলটির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী লাভলু মিয়া নিহত হন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের ছেলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, আমার বাবা বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। জ্বালাও-পোড়াওসহ একাধিক মামলায় জেলে গেছেন, আমরা বাপ-ছেলে গুলিও খেয়েছি। অথচ আজ বাবা খুনের পর বিএনপির নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। একই ধরনের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উত্তেজনা বিরাজ করছে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপিতেও। অন্যদিকে সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জনপদ বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি এখন এক গভীর কোন্দল ও চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা দীর্ঘদিন বিশ্বনাথে দলের হাল ধরে রাখলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের উত্থানে দুই গ্রুপ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশলের কাছে লুনা গ্রুপ বর্তমানে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

এক কথায় সারাদেশেই বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, যারা বিগত বছরগুলোতে মামলা, হামলা ও বুলেটের শিকার হয়েছেন, তারা আজ দলে চরমভাবে অবহেলিত ও কোণঠাসা; অন্যদিকে সুবিধাবাদী নেতারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য ও পুনর্বাসনে ব্যস্ত থাকায় বিএনপির মূল অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

Leave a Reply