যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানরত ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি নিজামুদ্দীন বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্টপতি বরাবর বিগত ৩১/০৫/২০২৬ তারিখে একটি খোলা চিঠি লিখেন। অদ্য ইহা হুবহু প্রকাশ করা হইলো

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

তারিখ ৩১/০৫/২০২৬ ইংরেজি

প্রাপক
মাননীয় রাষ্ট্রপতি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

আমার সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন। আমি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আপনার নিকট এই খোলা চিঠি লিখছি।

বিষয়:- জুলাই ন্যাশনাল চার্টার, গণভোটের ম্যান্ডেট বিবেচনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চ এর প্রধান মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ।

মাননীয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়,
আমি বিনীতভাবে এই খোলা চিঠির মাধ্যমে জুলাই ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উক্ত চার্টারটি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন লাভ করে।

পটভূমি
“জুলাই ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫” বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার ওপর একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচনের সাথে একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নেওয়া হয়। এই গণভোটে প্রায় ৭০% ভোটার “হ্যাঁ” ভোট দেন, যা জনগণের স্পষ্ট মতামত বা রায় প্রকাশ করে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেছিল যে গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করা হবে এবং নির্বাচিত সরকার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বর্তমান পরিস্থিতি
গণভোটের ফলাফল এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও, জুলাই ন্যাশনাল চার্টার বাস্তবায়নের জন্য এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপত শুরু হয়নি বরং সরকারের কতিপয় ব্যক্তিবর্গ তা নিয়ে রিতিমত উপহাস বা ঠাট্টা বিদ্রুপ করতেছেন। এর ফলে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে তাদের প্রকাশিত মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে কিনা।

সাংবিধানিক নীতি
বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকার করে যে সমস্ত ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা অবশ্যই গণতান্ত্রিক নীতি, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের প্রতিফলন ঘটাবে।
এটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১ অনুযায়ী নির্ধারিত।

অনুরোধ
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমি নিজামুদ্দীন, সভাপতি ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল, সম্মানের সাথে মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি যে:-

১. যেহেতু বাংলাদেশের গণভোটে ৭০% মানুষের ভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হয়েছে সেহেতু জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণরায় মেনে নেয়া জরুরী, কারণ মানুষ চায় জনগণের দেওয়া রায় ও প্রত্যাশার সম্মান হোক। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখাযায় বর্তমান সরকারের কিছুসংখ্যক মন্ত্রী এমপিরা বলতেছেন গণভোট সংবিধানে নাই, কিন্তু তারা জানেনা যে বাংলাদেশে এই গণভোট প্রথম নয়, বাংলাদেশে এই পর্যন্ত গণভোট হয়েছে মোট ৪ বার, প্রথম গণভোট হয়েছে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, দ্বিতীয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ, তৃতীয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, চতুর্থ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী। ১৯৯১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট শাসিত শাসনব্যবস্থা ছিলো, ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের গণভোটের মাধ্যমে এই শাসন পদ্ধতির অবসান ঘটে এবং সংসদীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। সুতরাং গণভোটকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করা হলে সেই ১৯৯১ সালের গণভোটও বাতিল হবে আর ১৯৯১ সালের গণভোট বাতিল হলে বর্তমান সংসদ ব্যবস্তা বাতিল হবে।

আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে গণভোট শুধু বাংলাদেশেই হয় না বরং বিশ্বের অনেক সভ্য ও উন্নত দেশেও গণভোট হয় সুতরাং গণভোটকে অসাংবিধানিক বলা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সমর্থিত একটি বিষয়কে অস্বীকার ও অবমাননা করারই নামান্তর

২. যেহেতু বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। এবং পরবর্তীতে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ জনগণের অনুমোদন লাভ করেছে। সেহেতু জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা জরুরী, এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা এই সরকারের জন্য বুমেরাং হবে বলে আমি মনেকরি।

৩. বাংলাদেশের আলোচিত সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ এর প্রতিবাদী মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে। আমি ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি হিসেবে ইহা কার্যকরের জুর দাবি জানাচ্ছি।

৪. বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, দেশে মানুষের জান মালের কোনো নিরাপত্তা নাই সুতরাং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আপনার শুভদৃষ্টি কামনা করছি।

৫. বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আওয়ামী শক্তিগুলোর পুনর্বাসন হচ্ছে, যার ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, দেশের মানুষ আবারও অনিশ্চয়তায় ভুগছে। সুতরাং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির স্বার্থে সন্ত্রাসী দলের পূনর্বাসন বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

৬. বাংলাদেশে বিএনপির নেতা কর্মীরা আগের মতই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে মার খাচ্ছে এমনকি হত্যার স্বীকারও হচ্ছে ।
যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ দ্বারা প্রমাণিত। দেশের জনগণ যে আওয়ামী শক্তিকে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই শক্তির পুনরুত্থান দেশ ও জনগণের জন্য বিপজ্জনক। জনগণ বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী ও সহিংস আওয়ামী রাজনীতির পুনরুত্থান দেখতে চায় না। মানুষ চায় বাংলাদেশ হোক আওয়ামী সন্ত্রাস ও অন্যায়ের রাজনীতি থেকে মুক্ত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ যে পূনর্বাসিত হয়েগেছে তা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে বাংলাদেশকে আওয়ামীলীগ মুক্ত করে বিএনপির নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

৭. বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জজকোর্ট পর্যন্ত, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনী ও আনসার পর্যন্ত, সচিবালয় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত, এমনকি জেলখানা সহ দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে এখনও আওয়ামীলীগ পন্তী কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিদ্যমান বলে অভিযোগ রয়েছে, যাহা দেশ ও জাতির জন্য বিপজ্জনক, এদের অপসারণ খুবই জরুরী, কারণ মানুষ চায় প্রশাসন হোক নিরপেক্ষ। দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র সত্যিকার অর্থে জনগণের অধীনে পরিচালিত হয়। সুতরাং দেশের প্রশাসনকে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাস মুক্ত করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

৮. দেশের বর্তমান সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কারণ এই সংবিধান আওয়ামীলীগের স্বার্থান্বেষী এবং তাদেরই বানানো সংবিধান, এই সংবিধান ফ্যাসিবাদী ও বাকশালি সংবিধান, এই সংবিধান গণতন্ত্র বিরোধী সংবিধান, ইহাতে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণ নাই, এই সংবিধানে আছে শুধু আওয়ামীলীগের স্বার্থ।
তাই জনগণের প্রত্যাশা হলো এই সৈরতান্ত্রী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার। ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন।

৯. আওয়ামীলীগের উপর দায়ের কৃত অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে,এবং অনেক আওয়ামীলীগ নেতার জামিনও হয়েছে। অতচ এখনও বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা গায়েবি মামলা চলমান রয়েছে যা এখনও প্রত্যাহার হয়নি । বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর এইসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা গায়বি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য আমি আপনার সক্রিয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি, এইসকল মিথ্যা ও গায়েবি মামলার অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। দেশের মানুষ চায় আওয়ামীলীগের দায়ের কৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হোক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

১০. বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্তাকে দূর্নীতি মুক্ত ও উন্নত করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি , কারণ চিকিৎসার সাথে মানুষের জীবনের সম্পর্ক। দেশে ভুল চিকিৎসা ও অনুন্নত চিকিৎসার কারণে প্রতি বৎসর হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, তাছাড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যাহা সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে। ধনীরা দেশের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা করছে আর গরীবরা দেশে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এদিকে বাংলাদেশের ডাক্তার ও হসপিটাল গুলোর অমানবিক আচরণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে, মানুষ কইতেও পারছে না সইতেও পারছেনা।
বর্তমানে বাংলাদেশের ডাক্তাররা পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হয়, ইহা খুবই দুঃখজনক।

উপসংহার
মহামান্য প্রেসিডেন্ট ! উপরোউল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি, সুতরাং আমি আশা করি, আপনি দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের মানুষ আপনার ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

ধন্যবাদান্তে,
বিনীত
বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষে,
নিজামুদ্দীন
সভাপতি, ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল।
বর্তমান ঠিকানা
4 kirwyn way ,camberwell, London SE5 0YA