(বিশেষ প্রতিবেদক): সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপিতে দলীয় কোন্দল এখন চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লুনা গ্রুপ ও হুমায়ুন গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও লুনা গ্রুপ হুমায়ুন গ্রুপের কারণে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, দুই বলয়ের এই চরম উত্তেজনার জেরে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী মারামারি ঘটতে পারে, এমনকি এতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। এই আশঙ্কায় পুরো বিশ্বনাথের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বে বাসিয়া ব্রিজ এলাকায় বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতার সমর্থকদের মধ্যে যে প্রকাশ্য ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। বরং জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এসে এই কোন্দল আরও জটিল ও মারমুখী আকার ধারণ করেছে। বিশ্বনাথ বিএনপির এই বিরোধের মূলে রয়েছেন দলের দুই শীর্ষ নেতা। একদিকে রয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা গ্রুপ এবং অন্যদিকে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের গ্রুপ।
বিগত নির্বাচনে তাহসিনা রুশদীর লুনা এমপি নির্বাচিত হলেও, রাজনৈতিক মাঠের সমীকরণে বর্তমানে লোনা গ্রুপের চেয়ে হুমায়ুন গ্রুপ স্পষ্টতই অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হওয়ার পর সেই পদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশ্বনাথ বিএনপির রাজনীতিতে নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই বিশাল প্রভাবের সামনে দীর্ঘদিনের চেনা মাঠে লোনা গ্রুপ এখন চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
বিশ্বনাথে বিএনপির এই দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের লড়াই আর কেবল সাংগঠনিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই। লোনা গ্রুপের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কোণঠাসা অবস্থা এবং হুমায়ুন গ্রুপের সরকারের উচ্চপদের প্রভাব খাটিয়ে সর্বাত্মক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মরিয়া চেষ্টায় পুরো পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাঠের কর্মীরা যেভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে, তাতে যেকোনো সময় একটি ছোট উসকানিও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নিবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এবং পারবেও না কারণ এই দুই গ্রুপই সরকার দলের, দুই গ্রুপই বিএনপির। সুতরাং বিশ্বনাথ বিএনপির রাজনীতির ওপর থেকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর প্রাণহানির কালো মেঘ কোনোভাবেই কাটছে না এবং কাটার সম্ভাবনাও নেই।
