ইয়াছমিন বেগম(ঢাকা): আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অনানুষ্ঠানিক অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অভ্যন্তরীণ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, জিডি, কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একাংশের দাবি, কিছু থানায় সাধারণ সেবা পেতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, দ্রুত সেবা পাওয়ার আশায় তারা বাধ্য হয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ প্রদান করেন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই এসব অভিযোগকে ব্যক্তিগত অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে থাকে এবং বলে আসছে যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানো গেলে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরের অনিয়ম কমাতে পারলে কি সাধারণ মানুষ সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার আরও সহজে পাবে? নাকি দুর্নীতির এই ছায়া থেকেই যাবে দীর্ঘ সময় ধরে?
