যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানরত ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি নিজামুদ্দীন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বরাবর বিগত ২০/০৩/২০২৬ তারিখে একটি খোলা চিঠি লিখেন। অদ্য ইহা হুবহু প্রকাশ করা হইলো

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

তারিখ: ২০/০৩/২০২৬ ইংরেজি।

প্রাপক
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

বিষয়: দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কিছু জরুরী বিষয় সম্পর্কে নাগরিক উদ্বেগ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন। আমি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকে আপনার নিকট এই খোলা চিঠি লিখছি।

বাংলাদেশের জনগণ প্রায় দীর্ঘ ১৭ বৎসরের নির্যাতন , নিপীড়ন, গুম, খুন, হত্যা, জেল, জুলুম, মিথ্যা গায়বী মামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আপনার নেতৃত্বে পরিবর্তনের আশায় তাকিয়ে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু বিষয় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, এবং আপনাকে ও বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

প্রথমত, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে। যেমন বিগত ৮ মার্চ ২০২৬ Dhakapost.com – শিরনাম করেছে “জেল গেটে আওয়ামীলীগ নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করলেন বিএনপি নেতা” এবং এই পত্রিকা ইহার একটি ছবিও প্রকাশ করেছে।

আজ থেকে মাত্র ২ দিন আগে Shahdat Hossain Shagor নামে আইডি থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যেভাবে বিএনপির নেতা কর্মীরা আওয়ামীলীগকে বিএনপিতে ঢোকাচ্ছে এবং মামলা বানিজ্য করছে এতে বিএনপির সাধারণ নেতা কর্মীদের অন্তরে রক্ত করন হচ্ছে। বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে Karimul Hossain নামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবদল, ছাত্রদল ও সেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতা কর্মী সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন কারণ তারা বলছেন যে ৫ আগষ্টের পর থেকে বিএনপির কিছু নেতা কর্মী আওয়ামীলীগকে পূনর্বাসন করতেছে এবং আমাদের উপর একের পর এক জুলুম নির্যাতন, ভয় ভিথি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে Arafat Hossain নামে আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে যে বিএনপির কিছু নেতা কর্মী আওয়ামীলীগের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচছা নিচ্ছে কিন্তু বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বিগত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে Doinik Fani এর প্রকাশিত ভিডিওতে ফেনি জেলা বিএনপির সভাপতি দাবি করেব যে আওয়ামীলীগের সাবেক কাউন্সিলর খুনি খালেদ খান জামিনে জেল থেকে বের হয়েই বিএনপির নেতা জয়নালের বাড়িতে যান এবং জয়নালও তাকে বরণ করে নেন। মাত্র ৩ দিন আগে Kalabeda Online সহ একাধিক মিডিয়া প্রকাশ করেছে যে চুয়াডাঙ্গা আওয়ামীলীগ নেতাকে জেল থেকে মুক্ত করলো বিএনপি নেতা, আর মুক্ত হয়ে সেই বিএনপি নেতার স্ত্রী কে ধর্ষণ করলো আওয়ামীলীগ নেতা। এভাবে বিএনপি আওয়ামীলীগকে পূনর্বাসন করলে ইহা বিএনপির জন্য বুমেরাং হবে।

একইসঙ্গে বিভিন্ন কৌশলে নিষিদ্ধ আওয়ামী সংগঠনগুলোর অনেকেই বিএনপির ভেতরে অনুপ্রবেশ করছে, যার ফলে বিএনপির মধ্যে দলীয় কোন্দল, বিভাজন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যেমন – বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ দৈনিক দেশ রুপান্তর শিরোনাম করেছে “মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫ জন। ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ঢাকা টাইমস এর শিরোনাম ” কালীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশ সহ আহত ১২ জন। ৮ মার্চ ২০২৬ BDC News.tv শিরোনাম করেছে “ঝিনাইদহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি। যাহা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য শুভ সংকেত নয়।

দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত আওয়ামী শক্তিগুলোর পুনর্বাসনের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, দেশের মানুষ আবারও অনিশ্চয়তায় ভুগছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় যে আপনি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে দেশে খুন হয়েছে ৪৬ টি, ধর্ষন হয়েছে ১৩ টি, চাদাবাজি হয়েছে ৮৫৮ টি।

এছাড়া বিগত ২ মার্চ ২০২৬ News Bangla. Tv শিরোনাম করেছে ” সায়দাবাদে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ইন্সপেক্টর গুলিবিদ্ধ। ৬ মার্চ ২০২৬ Channel 10 এর শিরোনাম “বগুড়ায় জুলাই যোদ্ধাকে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে জখম “। ৮ মার্চ ২০২৬ bdnews24.com এর শিরোনাম ” মোহাম্মদপুরে হাটতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার দুদকের মহা পরিচালক”।

তৃতীয়ত, বিএনপির নেতা কর্মীরা আগের মতই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে মার খাচ্ছে এমনকি হত্যার স্বীকারও হচ্ছে ।

যেমন- বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ দৈনিক সিলেটের ডাক শিরোনাম করেছে “ছাতকে আওয়ামী সন্ত্রাসীর কবলে জিম্মি গ্রামবাসী”। ২ মার্চ ২০২৬ Rtv News এর শিরোনাম ” আওয়ামীলীগের হামলায় বিএনপির ২ কর্মী নিহত”। ৮ মার্চ ২০২৬ দৈনিক আমার দেশ শিরোনাম করেছে “চাট খিলে ছাত্রদল কর্মীকে কোপালো আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা” ।

বগুড়া এক্সপ্রেস এবং BD Today শিরোনাম করেছে “ভোলার চরফ্যাশনে যুবদলের অফিসে ঢুকে যবলীগ নেতার চাঁদা দাবি ও মারধরে আহত যুবদল নেতা”।

দেশের জনগণ যে আওয়ামী শক্তিকে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই শক্তির পুনরুত্থান দেশ ও জনগণের জন্য বিপজ্জনক। জনগণ বাংলাদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী ও সহিংস আওয়ামী রাজনীতির পুনরুত্থান দেখতে চায় না। মানুষ চায় বাংলাদেশ হোক আওয়ামী সন্ত্রাস ও অন্যায়ের রাজনীতি থেকে মুক্ত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ পূনর্বাসিত হয়েগেছে। যেমন- Bekar Tv একটি প্রতিবেদনে বলছে ” সম্ভাব্য ১ মাস ১০ দিনের মধ্যে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে”।

মাত্র ৩ দিন আগে Political Edition PE একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে এতে দেখা যাচ্ছে ঢাকায় হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা মিছিল করতেছে। বিগত ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে Jaber Mahmud নামে একটি আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ মিছিল করতেছে।

চতুর্থত, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জজকোর্ট পর্যন্ত, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনী ও আনসার পর্যন্ত, সচিবালয় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত, এমনকি জেলখানা সহ দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে এখনও আওয়ামীলীগ পন্তী কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিদ্যমান বলে অভিযোগ রয়েছে, যাহা দেশ ও জাতির জন্য বিপজ্জনক, এদের অপসারণ খুবই জরুরী, কারণ মানুষ চায় প্রশাসন হোক নিরপেক্ষ। দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র সত্যিকার অর্থে জনগণের অধীনে পরিচালিত হয়।

পঞ্চমত, দেশের বর্তমান সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কারণ এই সংবিধান আওয়ামীলীগের স্বার্থান্বেষী এবং তাদেরই বানানো সংবিধান, এই সংবিধান ফ্যাসিবাদী ও বাকশালি সংবিধান, এই সংবিধান গণতন্ত্র বিরোধী সংবিধান, ইহাতে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণ নাই, এই সংবিধানে আছে শুধু আওয়ামীলীগের স্বার্থ। এই সৈরতান্ত্রী সংবিধানকে বৈধতা দিলে শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হবে, এবং আওয়ামীলীগের তিন শত জন এমপি এখনও বৈধ এমপি হবে, আওয়ামীলীগের মন্ত্রী পরিষদ বৈধ হবে, এবং আওয়ামীলীগের সংসদের স্পিকার বৈধ হবে ও তাদের সংসদও বহাল থাকবে , কারণ বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামীলীগ সরকারের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নাই এবং তাহারা পদত্যাগও করে নাই।

বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সংবিধানের বৈধতা দিলে বর্তমান সংসদ অবৈধ হবে এবং সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অবৈধ হবে কেননা সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামীলীগের নিয়োগপ্রাপ্ত স্পিকার ড শিরিন শারমিন বর্তমান সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতে হয়। তাই জনগণের প্রত্যাশা হলো প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কার। ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

ষষ্ঠত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান এমপি ফজলুর রহমান সহ কিছুসংখ্যক বিএনপির নেতা কর্মীরা আওয়ামীলীগের উপর দায়ের কৃত মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন, এবং অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকে জামিনও দিয়েছেন, যেমন- বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ Channel 24 শিরোনাম করেছে “জুলাই আগস্টে হত্যাযঞ্জের মামলায় কক্সবাজারের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট”।

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ News Bangla 24 এর রিপোর্টে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একসাথে ৫ টি মামলায় জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমন সহ আনেক আওয়ামীলীগ নেতার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ভাবে জামিন হয়ে গেছে।

অতচ এখনও বিএনপির বহু রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার দীর্ঘদিনের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা চলমান রয়েছে—যা এখনও প্রত্যাহার হয়নি । বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর এইসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা গায়বি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য জনগণ সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে, এইসকল মিথ্যা ও গায়েবি মামলার অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। দেশের মানুষ চায় আওয়ামীলীগের দায়ের কৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হোক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একইসঙ্গে যদি কোথাও চাঁদাবাজি বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকে, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সপ্তমত, যেহেতু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা বিএনপির নির্বাচনী ওয়াদা ছিলো সেহেতু জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করা জরুরী বলে আমি মনেকরি।

অষ্টমত, যেহেতু বাংলাদেশের গণভোটে ৭০% মানুষের ভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হয়েছে সেহেতু জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণরায় মেনে নেয়া জরুরী, কারণ মানুষ চায় জনগণের দেওয়া রায় ও প্রত্যাশার সম্মান হোক। বিএনপির কিছু নেতা কর্মী বলতেছেন গণভোট সংবিধানে নাই, কিন্তু একটি বিষয় জানতে হবে বাংলাদেশে এই গণভোট প্রথম নয়, বাংলাদেশে এই পর্যন্ত গণভোট হয়েছে মোট ৪ বার, প্রথম গণভোট হয়েছে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, দ্বিতীয় ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ, তৃতীয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, চতুর্থ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী। ১৯৯১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট শাসিত শাসনব্যবস্থা ছিলো, ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের গণভোটের মাধ্যমে এই শাসন পদ্ধতির অবসান ঘটে এবং সংসদীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। সুতরাং গণভোটকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করা হলে সেই ১৯৯১ সালের গণভোটও বাতিল হবে আর ১৯৯১ সালের গণভোট বাতিল হলে বর্তমান সংসদ ব্যবস্তা বাতিল হবে এবং বর্তমান সংসদ বাতিল হলে আওয়ামীলীগের নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দীন চুপ্পু দেশের একক ক্ষমতাধর শাসক হবে। যাহা দেশ ও জাতির জন্য খুবই বিপজ্জনক।

নবমত, বাংলাদেশের আলোচিত সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ এর প্রতিবাদী মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে। আমি ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি হিসেবে ইহা কার্যকরের জুর দাবি জানাচ্ছি।

দশমত, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্তাকে দূর্নীতি মুক্ত ও উন্নত করতে হবে, কারণ চিকিৎসার সাথে মানুষের জীবনের সম্পর্ক। দেশে ভুল চিকিৎসা ও অনুন্নত চিকিৎসার কারণে প্রতি বৎসর হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, তাছাড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যাহা সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে। ধনীরা দেশের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা করছে আর গরীবরা দেশে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এদিকে বাংলাদেশের ডাক্তার ও হসপিটাল গুলোর অমানবিক আচরণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে, মানুষ কইতেও পারছে না সইতেও পারছেনা। বর্তমানে বাংলাদেশের ডাক্তাররা পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হয়, ইহা খুবই দুঃখজনক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

বাংলাদেশের জনগণ আস্থা ও প্রত্যাশা নিয়ে আপনার নেতৃত্বকে সমর্থন করেছে। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

আমি আশা করি, আপনি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে আপনার সাহসী ও ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তের।

ধন্যবাদান্তে,

বিনীত

বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে,
নিজামুদ্দীন
সদস্য, লন্ডন মহানগর বিএনপি।
সভাপতি, ইনকিলাব মঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল।

বর্তমান ঠিকানা
4 kirwyn way ,camberwell, London SE5 0YA